আবহাওয়া ভারত আন্তর্জাতিক

আজকের (৮ই জুলাই, ২০২৬) কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবহাওয়া প্রতিবেদন

কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত গরম এবং অস্বস্তিকর, যার প্রধান কারণ বাতাসে উচ্চ মাত্রার আর্দ্রতা। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (IMD) কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার আলিপুর এবং দমদম আবহাওয়া কেন্দ্র দুটিতেই তাপমাত্রা ৩১° সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আলিপুরে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮১%, যেখানে দমদমে তা ছিল ৭৯%, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর আবহাওয়া তৈরি করেছে। শহরের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যা সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প নিয়ে আসায় এই আর্দ্রতা আরও বেড়েছে, যদিও দমদমে বাতাসের গতিবেগ (২২.২ কিমি/ঘণ্টা) আলিপুরের (৫.৬ কিমি/ঘণ্টা) তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

রাজ্যের অন্যান্য অংশের আবহাওয়ার চিত্রও কিছুটা ভিন্নতা দেখিয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল (২৭.৬° সেলসিয়াস), কিন্তু সেখানকার আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ (৯৫%), যা মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, মালদা ও বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ৩১.৪ থেকে ৩১.৮° সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে, যেখানে আর্দ্রতা ছিল ৭৮%। মালদায় বাতাস সম্পূর্ণ স্থির (০ কিমি/ঘণ্টা) ছিল, যা সেখানে গরমকে আরও প্রকট করে তুলেছে, অন্যদিকে বাঁকুড়ায় দক্ষিণ দিক থেকে ৩.৭ কিমি/ঘণ্টা বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল।

উপকূলীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারে আবহাওয়া ছিল আরও ভিন্ন, কারণ সেখানে আর্দ্রতা ৯০% পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এই অঞ্চলের আবহাওয়াকে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর করে তুলেছে। সেখানে দক্ষিণপশ্চিম দিক থেকে ৭.৪ কিমি/ঘণ্টা বেগে বাতাস বইছে, যা সমুদ্রের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে। এই উচ্চ আর্দ্রতা ও গরমের কারণে উপকূলীয় বাসিন্দাদের এবং মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে তারা জোয়ারের ভাটা ও হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া সম্পর্কে সজাগ থাকেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোনও সাইক্লোন বা বড় ধরনের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই আর্দ্র ও গরম আবহাওয়া কিছুদিন চলতে পারে, এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনই অনিশ্চিত। সাধারণ মানুষকে দুপুরের রোদে বেরোনো এড়িয়ে চলার এবং পর্যাপ্ত জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গরমজনিত অসুস্থতা (হিট স্ট্রোক) এড়ানো সম্ভব হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া দফতর নিয়মিতভাবে এই আবহাওয়ার তথ্য আপডেট করছে এবং জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার জন্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। মৎস্যজীবী ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে তারা যেন আবহাওয়ার কোনো পরিবর্তন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০-৩২° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে এবং আর্দ্রতা ৮০% এর উপরে থাকবে, ফলে এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে মুক্তি পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে আবহাওয়াবিদরা মত প্রকাশ করেছেন।