তীব্র গরম আর অসহনীয় ভ্যাপসায় ইতিমধ্যেই নাজেহাল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ। আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা বলছে, এবার শহরের আধুনিকতাকে একপাশে সরিয়ে দিয়ে চলবে ‘গ্রামের ক্ষমতা’। প্রকৃতির রোষে বিদ্যুৎ সংকট, জলকষ্ট এবং দাবদাহ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠবে দুর্বিষহ।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে কলকাতার তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। সঙ্গে আর্দ্রতা থাকবে অত্যধিক, ফলে ‘রিয়েল ফিল’ তাপমাত্রা ৪৫-৪৮ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলি থেকে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাস শহরের উপর চেপে বসবে। এই অবস্থায় কলকাতাসহ হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, বর্ধমানসহ একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
তীব্র গরমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা রেকর্ড ছুঁয়েছে। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, চাহিদা মেটাতে গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ শহুরে মানুষের আরামের জন্য গ্রামের লোডশেডিং বাড়বে, কিন্তু শহরেও ঘন ঘন পাওয়ার কাট হবে। অনেক এলাকায় দিনে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অফিস, বাড়ি, হাসপাতাল—সব জায়গাতেই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েছে
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের আর্দ্র গরমে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় জলকষ্টও দেখা দিতে পারে।
কবে স্বস্তি?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪-৫ জুনের পর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতে পারে। তবে তার আগে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিছু জেলায় বজ্রবৃষ্টি হলেও কলকাতায় তা সীমিত থাকতে পারে। পূর্ণ স্বস্তি মিলতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
কলকাতা পুরসভা ও রাজ্য প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় জলের ট্যাঙ্কার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। স্কুল-কলেজে ছুটির সময়সূচি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে দুপুর ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ে ‘গ্রামের ক্ষমতা’ যেন শহরকে একেবারে জব্দ করে না ফেলে—সেদিকে সকলের নজর রাখা জরুরি।